যাদের দেখার কথা, কানেই যেন যায় না তাদের

কেন গুরুত্ব দিচ্ছে না অধিদপ্তর? মেহেদী বলেন, “উদ্যোগী হয়ে কাজ করলেও যা পাবেন, না করলেও তো তাই পাবেন। তাই এটা করে।”চিকিৎসক রোমেন রায়হান বলেন, “ইদানীং বায়ু দূষণ নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে। সেখানেও শব্দ দূষণের বিষয়টি উঠে আসছে না। এ কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের অগ্রাধিকারে এটি থাকে না। দেখবেন তারা দিবসকেন্দ্রিক কাজ করে। কিন্তু সেটি করলে হবে না। এর ধারাবাহিকতা লাগবে।“এখানে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আইন করা এবং তার বাস্তবায়ন এবং সচেতনতা গড়া। কিন্তু সেখানে কাজ হচ্ছে না, এটিই সমস্যা।”সমাধান ‘কঠিন নয়’মেদেহী বলেন, “গাড়ি বা বাইক উৎপাদন বা সংযোজন পর্যায়ে বলে দিলেই তো হয় যে ৪০ ডেসিবলের ওপরে কোনো হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি যারা হর্ন আমদানি করে তাদেরকেও সেটি বলতে হবে।”আরেক কার্টুনিস্ট ও সংবাদ কর্মী আবু হাসান গত ১০ বছর ধরে পারতপক্ষে হর্ন না বাজিয়ে বাইক চালিয়ে আসছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “কোনো কারণে যদি ভাড়ার বাইক বা অটোরিকশায় উঠতে হয়, আগেই শর্ত দিয়ে নিই, অকারণে হর্ন বাজানো যাবে না। ঠিকই তখন তারা হর্ন না বাজিয়েই চলে। তার মানে এটা যে দরকার নেই, সেটি তারা বোঝেন না।”তিনি বলেন, “হর্নের তো মিটার নাই। তাই কেউ বুঝবে না তিনি ৪০ ডেসিবলে বাজালেন নাকি ৬০ এ বাজালেন। কাজেই এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে উৎপাদন আর বাজারজাতকরণের সময়। তাদেরকে নির্দেশ দিতে হবে যে, ৪০ ডেসিবলের ওপরের কোনো হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।“আরেকটা বিষয় জরুরি, সেটি হলো হর্ন আমদানির ক্ষেত্রে সীমা বেঁধে দিতে হবে। ৪০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রায় আনা যাবে না, এমন নিয়ম করে দিলেই তো হয়।”গাড়ি আমদানিকারক বেনজীর আহমেদ বলেন, “আমরা যেসব গাড়ি আমদানি করি, সেগুলোর উৎপাদক কোম্পানি আইন কানুন মেনেই উৎপাদন করে। বিভিন্ন দেশে দেখেছি হর্ন বাজানো হয় না বললেই চলে। আর বাজালেও ১০ ফুট দূরে শোনা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে তো আধা কিলোমিটার বা তার চেয়ে বেশি দূরে শোনা যায়।”ঢাকায় ‘প্রতি পাঁচ জনে একজনের’ শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্তচিকিৎসক সাইকা নিজামের সেই গবেষণায় যাদের পরীক্ষা করা হয়, তাদের মধ্যে ৭ শতাংশের শ্রবণশক্তি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে, এখনই তাদের শ্রবণযন্ত্র লাগবে। ১৪ শতাংশের শ্রবণ শক্তিও নষ্ট হয়েছে ব্যাপকভাবে। তাদেরও যে কোনো সময় শ্রবণ যন্ত্র লাগতে পারে।

