‘খালি ভিডিও করে, ধরার লোক নাই’

বিআরবি কেবলসের কর্মী মেজবা আহমেদ বলেন, “আমি নামাজে যাইতাছিলাম। প্রচণ্ড শব্দে সব কাঁইপা উঠলো। এরপর খালি ধুমা ধুমা। আইসা দেখি আল্লাহরে আল্লাহ… মানুষ সব রাস্তায় পইড়া গোঙাইতাছে। গলাকাটা গরু যেমন শব্দ করে সেইরম। কারও কাপড় চোপড় ফাইড়া গেছে, লুঙ্গি পুইড়া গেছে। আশপাশে স্যানেটারি মাল নেওয়ার ভ্যান আছিল। সেইগুলাতেই কয়েকজনকে উঠাইলাম।”তার মধ্যেই অনেকের ভিডিও করার দৃশ্যটি চোখে পড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “খালি ভিডিও আর ভিডিও করতাছে মাইনষে। পইড়া থাকা লোকগুলানরে ধরার লোক পাওয়া যায় না। এইসময় সেনাবাহিনীর একটা গাড়ি আছিল এইহানেই। হ্যাগো গাড়িতে ১০-১২জনরে তুইলা দেওয়া হইল, হ্যারা টান দিয়া হাসপাতালে নিল।”উবারের গাড়িচালক আনোয়ার হোসেনের টয়োটা গাড়িটি বিস্ফোরণে ভেঙেচুড়ে গেছে। গাড়িতে একজন যাত্রী থাকলেও তারা দুজন অক্ষতই রয়েছেন। বিস্ফোরণের ধাক্কায় আনোয়ারের গাড়ির উইন্ডশিল্ড আর বনেটের উপর উড়ে এসে পড়েছিলেন একজন।আনোয়ার বলেন, বিস্ফোরণের পর গাড়িটা রাস্তার একপাশে রাখেন তিনি। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত ভুরি ভুরি মানুষ মোবাইল ফোন হাতে তার সাক্ষাৎকার নিতে আসেন। নানাজনের নানা প্রশ্ন। কেউ লাইভ করছেন ফেসবুকে, কারও আছে ইউটিউব চ্যানেল।আনোয়ার বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এতবড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, মানুষের কোনো বিকার নাই! আমার ক্ষতিপূরণ কী করে হবে, আমি সেই চিন্তা করছি, আর তারা এসে খালি ভিডিও করে।”কাছেই ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর থাকায় কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজের নেতৃত্ব নেয়। আশপাশে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসে ভিড় সামলানোর চেষ্টা করেন। কারণে ভিড়ের কারণে উদ্ধারকর্মীদের কাজে সমস্যা হচ্ছিল।তবে ভিড় সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে পুলিশকে। বারে বারে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে লাঠি হাতে তেড়ে আসছিলেন পুলিশ সদস্যরা। তাতে কৌতূহলী মানুষকে কিছুদূর হটানো গেলেও পরক্ষণেই আবার ফিরে আসছিলেন তারা।

