শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৮ অপরাহ্ন

বাকলিয়ার ইয়াকুব ও তার সহযোগিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

শহীদুল ইসলাম বাবর
  • প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১
  • ২৪৭

 কবরস্থানের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় কবরস্থানের জায়গাতে সাইনবোর্ড দেয়াকে কেন্দ্র করে গত ১১ জুন শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারটার সময় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর উপর ব্যাপক গুলি বর্ষণ এবং মারধর করে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও মামলার মূল আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।


আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ বেশ কয়েকজন এখনো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হামলার ৫দিন অতিবাহিত হলেও মামলার মুল আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের অন্ত নেই। ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী হামলাকারী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশও করেছে। তবে পুলিশ বলছে ইয়াকুব আলী ও তার অন্য সহযোগীরা গা ঢাকা দিয়ে আছেন।
জানা যায়, চাকসুর প্রথম ভিপি মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোহাম্মদ ইব্রাহীমের বাবা সৈয়দুল হক ১৯৫১ সালের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাকলিয়া ১৮ নং ওয়ার্ডের আব্দুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় জনস্বার্থে কবরস্থান ও হাসপাতাল প্রতিষ্টার জন্য ৭৩ শতক জমি দান করেন।

সেখানে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ছাড়াও বাকি জায়গা কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেড় কেজি হিরোইনসহ আটক হয়ে দীর্ঘদিন জেল খেটে বের হওয়া এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইয়াকুব আলী ঐ কবরস্থানে লাশ দাফনকারীদের কাছ থেকে চাদাঁ আদায় করছে। এনিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীমের পরিবারের সদস্যদের নজরে আসলে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী যৌথভাবে ঐ কবরস্থানে গত ১১ জুন সাইনবোর্ড লাগাতে যায়। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে ওঁৎপেতে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে অস্ত্রধারীরা এলাকাবাসীর উপর অতর্কিত গুলি বর্ষণ শুরু করে।

এতে শুরুতেই মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইব্রাহীমের বড় ছেলে আব্দুল্লাহ কাইছার লিটনসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তিতে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে আরো ১৬ মারাত্মক জখম হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে গুলিবিদ্ধরা নগরীর একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধাানে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইব্রাহীমের পিতা সৈয়দুল হকের দানকৃত জায়গার উপরে একটি সরকারী হাসপাতাল ও কবরস্থান স্থিত থাকলেও কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের দাফনে চাদাঁর দাবীতে নিয়মিত বাধা দিয়ে আসছিল ইয়াকুবের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা। এই ইয়াকুব আলী ১৯৯৫ সালের দেড়কোটি টাকা মুল্যের দেড় কেজি হেরোইনসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে আটক ছিলেন।

পরবতির্তে জেল থেকে বেরিয়ে বাকলিয়া ১৮ নং ওয়ার্ডের হাটখোলা এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গঠন করে জায়গা দখল, চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল।

 

গত ২০১৯ সালে প্রবাসীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করতে গিয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল ইয়াকুব আলীর ৯ অনুসারী। এ নিয়ে থানায় মামলাও হয়েছে। সম্প্রতি এলাকাবাসীর উপর নির্বিচারে গুলি বর্ষনের ঘটনায় আবারো সামনে আসে ইয়াকুব আলীর নাম। মুক্তিযোদ্ধা ও চাকসুর প্রথম ভিপি মরহুম মোহাম্মদ ইব্রাহীমের ছেলে গুলিতে আহত আব্দুল্লাহ কাইছার লিটন বলেন, আমার দাদা সৈয়দুল হক এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে ১৯৫১ সালে হাসপাতাল ও কবরস্থান করার জন্য ৭৩ শতক জমি দান করেন। (যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা) দান করেছিল। সেখানে বর্তমানে একটি হাসপাতাল ও কবরস্থান স্থিত আছে। এই কবরস্থানে এলাকাবাসী মৃত ব্যাক্তিদের দাফন করার জন্য গেলে এই ইয়াকুব নিয়মিত চাদাঁ আদায় করেন। চাঁদা না দেয়ায় অনেক জনকে তার বাহিনীর হাতে নিগৃহিত হতে হয়েছে।

আমরা এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছি। আমরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রান চাই। এ বিষয়ে বাকলিয়া ১৮ নং ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগ সভাপতি আহমেদ ইলিয়াছ বলেন, ইয়াকুব একজন চিহ্নত সন্ত্রাসী। তার অপকর্মে এলাকাবাসী অতিষ্ট। আমরা এই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি। নিরীহ এলাকাবাসীর উপর গুলি বর্ষনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী সাইফুল্লাহ মাহমুদ বলেন, আমি সন্ত্রাসী ইয়াকুব আলীকে প্রধান করে মোট ২১ জনকে এজাহার নামীয় এবং আরো অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করি। এ মামলায় পিছনের সারির মাত্র ৫ আসামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারলেও ইয়াকুবসহ অস্ত্রধারী আসামীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সন্ত্রাসী ইয়াকুবের বিষয়ে জানতে চাইলে বাকলিয়া থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, জানতে চাইলে বাকলিয়া থানার ওসি রুহুল আমিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘কবরস্থানের জায়গাতে সাইনবোর্ড দেয়াকে কেন্দ্র করে গুলি ও সংঘর্ষের ঘটনার মূল হোতা ইয়াকুব আলীকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছি আমরা। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

Share This Post

আরও পড়ুন