শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

জরায়ুতে টিউমার বা ফাইব্রয়েডের চিকিৎসা

ডাঃ সাবরিনা বরকত
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৫৯

জরায়ুতে টিউমার বা ফাইব্রয়েড

আমাদের দেশের মহিলাদের মধ্যে জরায়ুর টিউমার বা ফাইব্রয়েড একটি অতি পরিচিত টিউমার। দেখা গেছে, ৩০ বছর বয়সের মধ্যে প্রায় ২০% মহিলারই ফাইব্রয়েড হয়ে থাকে। সাধারণত ৩৫-৪৫ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে এই টিউমার এর হার বেশি।

জরায়ুর ফাইব্রয়েড টিউমারের উৎপত্তি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা না গেলেওমনে করা হয় এর উৎপত্তি জরায়ুর অপরিণত মাংসপেশি থেকেই।

উপসর্গ

১। সাধারনত ৭৫% ক্ষেত্রেই কোন উপসর্গ থাকে না।

২। ৩০% মহিলাদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তস্রাব হয়ে থাকে। প্রতিবার মাসিকেই রক্তস্রাবের পরিমান বাড়তে থাকে।

়়৩। কোন কোন ক্ষেত্রে দুই মাসিকের মাঝামাঝি সময় রক্ত যেতে পারে।

৪। মাসিকের সময় তলপেটে অতিরিক্ত ব্যাথা হওয়া।

৫। তলপেটে চাকা বা ভারি অনুভব করা।

৬। ৩০% ক্ষেত্রে বাচ্চা না হওয়ার মত সমস্যাও হতে পারে।

৭। জরায়ুতে এই টিউমার থাকা অবস্থায় যারা গর্ভধারণ করে তাদের গর্ভপাত, সময়ের অনেক আগে প্রসব বেদনা হওয়া এবং বাচ্চা ওজনে কম হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে বারবার গর্ভপাত হওয়ার জন্যেও ফাইব্রয়েড দায়ী।

৮। তলপেটে ভীষণ ব্যাথা হওয়া।  

রোগ নির্ণয়

আলট্রাসনোগ্রাফীর মাধ্যমেই সাধারণত এই টিউমার নির্ণয় করা যায়। *   কখনো কখনো জরায়ুর ভিতরে টিউমার হিস্টারোস্কোপি এবং জরায়ুর বাইরের টিউমার ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমেও নির্ণয় করা যায়।  

চিকিৎসা

চিকিৎসা নির্ভর করে রোগীর সমস্যা বয়সের উপর। কোনো সমস্যা নাথাকলে সাধারণত কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। বয়স অনুযায়ীচিকিৎসার পদ্ধতি ঠিক করা হয়।

কুমারী মেয়েদের সাধারণত প্রোজেস্টোজেন, ড্যানাজল, লিউপ্রাইড জাতীয়ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু এটা সাময়িক। এর দ্বারা টিউমারকেনিশ্চিহ্ন করা কখনোই সম্ভব নয়।

এছাড়া ওষুধ যেমন [ulipristal acetate] এর মাধ্যমে টিউমার এর সাইজসাময়িক ভাবে কমিয়ে জটিলতা কিছুটা কমিয়ে রাখা যেতে পারে।  

বিয়ের পর যদি দেখা যায় এই টিউমার বন্ধ্যাত্বের কারণ তখন দেরি না করে‘মায়মেকটমি’ myomectomy অর্থাৎ জরায়ুর ভেতর থেকে কেমলমাত্রটিউমারটি বাদ দেওয়া প্রয়োজন।

পারেশেনের প্রয়োজন

তবে কোন কোন ক্ষেত্রে উপসর্গ না থাকলেও এই টিউমার অপারেশন করা লাগতে পারে যেমনঃ-

*   টিউমার এর সাইজ যদি ১২-১৪ সপ্তাহ গর্ভাবস্থা সাইজের সমান হয়। *   সাইজ খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। *     টিউমার এর জন্যে যদি বাচ্চা না হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। *   টউমারটি পেটের ভিতরে পেচিয়ে গিয়ে কোন জটিলতা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে।

কিন্তু বয়স যদি ৪০ বৎসরের বেশি হয়ে গিয়ে থাকে এবং সন্তানধারণেরকোনো প্রশ্ন না থাকে তবে টিউমার সমেত জরায়ু এবং সঙ্গে  দুই ওভারি বাদদিতে হবে। ওভারি বাদ দেওয়া সম্বন্ধে  মতান্তর থাকলেও যেহেতু আমাদেরদেশে অপারেশন পশ্চাৎ রোগীরা সেভাবে চেকআপে আসেন না এবং এদেশেমনোপজের জন্য মানসিক সমস্যা কম এবং ওভারির ক্যানসারে মৃত্যুর হারসব থেকে বেশি সেজন্য এই লেখক সব ক্ষেত্রে জরায়ুর সঙ্গে দুই ওভারি বাদদেন কারণ জরায়ু বাদ দেওয়ার পর ওভারি দুটির নিজে থেকেই কর্মক্ষমতাশেষ হয়ে যায়, কিন্তু ক্যানসারের আশঙ্কা থাকে। জরায়ুর সঙ্গে ওভারি বাদদিলে রোগীর বাকি জীবনটা কাটবে উদ্বেগহীন।

 

ডাঃ সাবরিনা বরকত

এমবিবিএস (ঢাকা)এফসিপিএস ( গাইনী & অবস্)

স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন

প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক

মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাপাতাল, মানিকগঞ্জ

চেম্বার: মা-শিশু জেনারেল হাসপাতাল, কেরানীহাট

সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।

সময়- প্রতি বুধবার সকাল-১০টা- বিকাল-৪টা

সিরিয়ানের জন্য-০১৭০৯৬১৮২৮২

Share This Post

আরও পড়ুন