শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৩ অপরাহ্ন

আর বাড়ি ফিরবেনা আশরাফ আলি

শহীদুল ইসলাম বাবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৫৯

এলাকায় শোকের মাতম

প্রতিদিন ভোরে গিয়ে কাজে যোগদান। কাজ শেষে রাতে বাড়ি ফেরা এটি ছিল তার নিয়মিত রুটিন। আজও ভোরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে ঠিকই। কিন্তু আর ফিরে আসবেনা সে। পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানছি উপজেলা সদর ইউনিয়নের রেমাক্রি মিয়ানমার সীমান্তবর্তী লিক্রে সড়কের ৪ কিলোমিটার নামক স্থানে গতকাল (২১ জানুয়ারী) সংগঠিত মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত পাঁচ  শ্রমিকের মধ্যে একজন হচ্ছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড়ের বাসিন্দা আশরাফ আলী প্রকাশ আশু (৪০)। বাশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত ছিদ্দিক আহমদের পুত্র আশুর মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়িতে পৌছলে পরিবার ছাড়িয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো গ্রামে। সড়ক দুর্ঘটনায় আশরাফ আলী নিহত হওয়ার বিষয়টি তার নিকটাত্মীয় চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবি এনামুল হক নিশ্চিত করেছেন।
আশরাফ আলি ঠিকাদার জিয়াউর রহমানের অধীনে থানছি সড়কের রেমাক্রি এলাকায় সড়ক নির্মাণ কাজে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত ছিল। আইনজীবি এনামুল হক জানান, আশরাফ আলি এক কন্যা ও ২ পুত্র সন্তানের জনক। একমাত্র মেয়ে তসলিমা আক্তার (১৬) বাজালিয়া হেদায়েতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসায় আলিমের অধ্যায়নরত। বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম (১৪) ঢাকায় একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী ও ছোট ছেলে আব্দুল ত্বোহা (১০) বাজালিয়াস্থ হোসনে আজিজ হেফজখানায় হেফজ বিভাগে অধ্যায়নরত রয়েছে। সকাল ১০টায় সংগঠিত দূর্ঘটনায় নিহত আশরাফসহ তিনজনের মরদেহ রাতে বান্দরবান সদরে আনা হয়। সেখান থেকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
এদিকে বাশবুনিয়া এলাকার বেশ কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, আশরাফ আলি ছিলেন অত্যান্ত সহজ সরল ও শান্ত মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই জীবিকা নির্বাহ করার জন্য বিভিন্ন স্থানে কর্ম করে বেড়াতেন তিনি। দূর্ঘটনায় তার এই মৃতু্যুতে পরিবারের সদস্যদের পাশপাশি এলাকাবাসীও শোকাবিভূত। এডভোকেট এনামুল হক বলেন, আমি এখন (রাত আটটা) বান্দরবান সদরে অবস্থান করছি। থানছি থেকে আমার দুলা ভাই (আশরাফ আলির লাশ) বান্দরবানে পৌঁছে গতরাত ২টার সময়।  আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ নিয়ে গ্রামে ফিরতে পেরেছি ভোর রাতে
সকাল নয়টার সময় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে।
পরিবারের প্রধান উপার্জণক্ষম ব্যাক্তির মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি বিপর্যয়ের মুখে পড়ে গেল বলে মন্তব্য করেন এনামুল।

Share This Post

আরও পড়ুন