শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১৮ অপরাহ্ন

অনলাইনে হয়রানি বা সাইবার ক্রাইম কিভাবে প্রতিরোধ করবেন?

জিয়া হাবীব আহসান, এডভোকেট
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
  • ১১১

অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইবার ক্রাইম মারাত্নকভাবেবেড়ে যাচ্ছে অপরাধ না করেও অনেকে ফেঁসে যাচ্ছেন ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর ময়মনসিংহ সহসারা দেশে এখন মোট টি সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত প্রতিষ্ঠিতহয়েছে এই অপরাধ দমনে আদালতগুলো রীতিমত বিচারিক কাজশুরু করে দিয়েছে থানায়ও এখন সরাসরি মামলা হচ্ছে সোশালমিডিয়ার যুগে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ, তথ্যের আদান প্রদানযেমন সহজতর হয়েছে তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যক্তিগত তথ্য ছবি/ভিডিও অপব্যবহার করে ব্লেকমেইলিংসহ নানান রকম হয়রানিরপরিমাণ কোন কোন ক্ষেত্রে ভিকটিম নিজেও জানছেন না তার তথ্য ছবি ব্যবহার করে অপরাধী/অপরাধীরা ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমেফেইসবুক, টুইটার, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিকার চাওয়া তো দূরেরকথা অনেক সময় সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে তা প্রকাশ করাওমুশকিল হয়ে পড়ে অনেকে আত্নহননের পথও বেছে নিতে দেখা গেছে, ধরণের সাইবার অপরাধের শিকার হতে পারেন যে কেউ এমতাবস্থায়আপনার করণীয় কি?

জেনে নিন এমন বিব্রতকর ঘটনা এড়িয়েনিরাপদ থাকার কিছু কৌশলঃ

() অচেনা, অপরিচিত কারো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট Accept  না করা, ()ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সবার জন্য উম্মুক্ত(Public)  না রাখা,() আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস চেক করুন, অন্যকারো পোস্টে আপনাকে Tag করার অপশন উম্মুক্ত রাখবেন না,()আবেগ প্রবণ বা প্ররোচিত হয়ে উস্কানিমূলক ছবি/ভিডিও শেয়ার করাথেকে বিরত থাকুন,() সন্দেহজনক কোন লিংকে ক্লিক করবেন না,()লগইন আইডি পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করুন এবং প্রতিবার ব্যবহারশেষে লগআউট করুন,() সন্দেহজনক কোন ইমেইল বা মেসেজ এরউত্তর প্রদান হতে বিরত থাকুন,() আপনার কোন পরিচিতজনেরবিপদের কথা জানিয়ে ইমেইল অথবা মেসেজ আসলে আগে যাচাইকরুন এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন,(৯) পাবলিক ওয়াইফাইব্যবহার কমানো, (১০) ব্যক্তিগত ডিভাইসকে সুরক্ষিত রাখা, (১১) নিজের বা পারিবারিক কোনো ছবি পাব্লিকে না দেয়া,(১২) সামাজিকমাধ্যমে বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া, (১৩) ব্যক্তিগত মুহূর্তেরছবি বা ভিডিও গ্রহণ না করা এবং কেউ গ্রহণ করতে চাইলে তাতে বাধাপ্রদান করা, (১) মোবাইলে অহেতুক উপহারের কথা শুনে অর্থ লেনদেননা করা, (১) বিকাশে ভুয়া মেসেজ না বুঝেই টাকা ট্রাঞ্জেকশন করেফেলা,(১) সুরক্ষিত নয় এমন কোনো জায়গায় ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডনা রাখা, (১) সুরক্ষিত নয় এমন কোনো দোকানে বা অনলাইন শপেক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটা না করা ,(১)  রিভিউ না দেখেইঅনলাইনের বিভিন্ন শপ থেকে কেনাকাটা না করা,(১) প্র্যাংকের নামেসমাজবিরোধী কোনো অনলাইন ভিজুয়্যাল কন্টেন্ট না করা এবং শেয়ারথেকে বিরত থাকা,(২০) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন ভালগারগ্রুপ ফলো না করা এবং পোস্ট শেয়ার থেকে বিরত থাকা, (২) বিপুলপরিমাণ অর্থ লটারীতে জিতেছেনএমন তথ্যসহকারে পাঠানো ইমেইলবা মেসেজ এর উত্তর প্রদান হতে বিরত থাকা এসকল তথ্যসম্বলিতমেইল অনুসন্ধানে ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে

কি ধরণের হয়রানির শিকার হতে পারেন এবং কখন আইনিব্যবস্থা নিতে পারবেন?

সামাজিক মাধ্যমে ফেক আইডি খুলে জ্বালাতন, সামাজিক মাধ্যমেরআইডি, ইমেইল অথবা ওয়েব সাইট হ্যাক, সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্নট্রল গ্রুপ বা পেজে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া,বিভিন্ন পর্নো ওয়েবসাইটেব্যক্তিগত মুহূর্তের ধারণ করা ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া,সামাজিকমাধ্যমের আইডি হ্যাক করে অর্থ দাবি,ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিওছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান হয়রানি,কাউকে মারধর করে তারভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া,কোনো কিশোরী বাযুবতী বা নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে তার ভিডিও ধারণ করে তাঅনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া,অনলাইনে ইকমার্সের নামে ভুয়া পেজ খুলেখারাপ পণ্য বিক্রির নামে হয়রানি,অনলাইনে পরিচিত হয়ে অনলাইনকারেন্সি ট্রাঞ্জেকশন করতে গিয়ে ফ্রডের শিকার,ভুয়া বিকাশ নম্বর থেকেফোন করে লটারির কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ,ভুয়াবিকাশের এসএমএস দিয়ে গ্রাহককে দিয়েই অভিনব কায়দায়প্রতারণা,অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট আর এটিএম কার্ডের ডিটেইলসচুরি করে অর্থ চুরি,অনলাইনে স্প্যামিং এবং গণ রিপোর্ট,অনলাইনেস্ক্যামিং,অনলাইনে বিভিন্ন সেলেব্রেটি বা মানুষের নামে ভুয়া তথ্য ছড়ানোবা খবর প্রচার, না বুঝে যেটা সেটা শেয়ার করা, অনলাইনে প্রশ্নফাঁসইত্যাদি আসলে এভাবে সাইবার ক্রাইম নিয়ে বলতে গেলে শেষ হবেনা কিন্তু সাইবার ক্রাইম নিয়ে মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশিরভাগ যুবক এবং আঠারো বছরেরশিশুকিশোররা এখনো জানে না যে সাইবার ক্রাইম কি? কি হলে তাকেসাইবার ক্রাইম ধরা যাবে ? অর্থা তাদের মধ্যে সাইবার ক্রাইমেরব্যাপারে বিন্দুমাত্র আইডিয়া নেই ফলে অনেক শিশু কিশোরদের বিপদেপড়তে দেখা যাচ্ছে, এমন কি অনেকে না জেনে না বুঝে রাষ্ট্রদ্রোহীতারঅভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছে

কোথায় অভিযোগ করবেনঃ

() প্রাথমিকভাবে অভিযোগ করতে পারেন আপনার নিকটস্থ থানায়অথবা, () মেইলে অভিযোগ জানাতে পারেনcyberhelp@dmp.gov.bd এই ঠিকানায় অথবা () সরাসরি কথাবলার প্রয়োজনবোধ করলে চলে আসতে পারেন সিএমপি বা ডিএমপিকাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশনের Cyber Crime Unit অফিসে কথাবলতে পারেন দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে এইনাম্বারে০১৭৬৯৬৯১৫২২  ঠিকানাঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশহেডকোয়ার্টার্স, ৩৬ শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী স্মরণী, রমনা, ঢাকাঅথবা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তর, দামপাড়া এবং নিজনিজ এলাকার মেট্রো জেলা পুলিশ হেড কোয়াটার এর সাইবার ইউনিট পুলিশ থানায় মামলা না নিলে বর্তমানে দেশের সাইবার কোর্টসমূহেআইনজীবিদের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ দায়ের করা যায় ভিকটিমকে নিজেই বাদী হতে হয়, পাওয়ার অব এটর্নি দিয়ে মামলা হয়না  

কিভাবে অভিযোগ করবেনঃ

ভিক্টিমাইজড হলে যত দ্রুত সম্ভব অভিযোগ জানানো উচিত অভিযোগকরার ক্ষেত্রে আপনার অভিযোগের স্বপক্ষে কিছু প্রমাণাদি প্রয়োজনযেমন এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আলামতের স্ক্রীনশট, লিংক, অডিও/ভিডিওফাইল অথবা রিলেটেড ডকুমেন্টস স্ক্রীনশট সংগ্রহের ক্ষেত্রে খেয়ালরাখতে হবে যেন Address Bar এর URL টি দৃশ্যমান হয় মেইল এরমাধ্যমে অভিযোগ জানাতে চাইলে এসব কন্টেন্ট এটাচ করে আপলোডকরতে হবে অন্যান্য ক্ষেত্রে সরাসরি সফট কপি দেয়া যেতে পারেসর্বোপরি আপনি প্রয়োজনে Cyber Crime Unit এর অফিসারদেরনিকট থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন যা আপনারআইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সহায়ক হতে পারে

তবে অ্যাপস বন্ধ করা যেমন কঠিন তেমনি সেগুলো নিষিদ্ধ করেওলাভ নাই নিষিদ্ধ করে ব্যবহার ঠেকানো যায় না এর জন্য দুইটিবিষয়ে জোর দেয়া প্রয়োজন সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশেরসক্ষমতা আরো বাড়ানো এবং দরকার প্যারেন্টাল গাইডেন্স অর্থাসন্তান যে গ্যাজেটটি ব্যবহার করছে তার প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অন করেদিতে হবে ফলে সন্তান যদি কোনো নিষিদ্ধ অ্যাপ ব্যবহার করে, সাইটেঢোকে বা গ্রুপে তৎপর হয় তাৎক্ষণিকভাবে তার নোটিফিকেশনপাবেন উপরোক্ত সকল বিষয়গুলো আমরা মেনে চলি তাহলে সাইবারক্রাইম অনেকাংশে কমে যাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদেরবিবেক বুদ্ধিবিবেচনাকে নৈতিকতার মানদন্ড হিসেবে ব্যবহার করতেপারলে কোন ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না সবাইকে বুঝতে হবে দেশেরসাইবার ইউনিটসমূহ সাইবার ক্রাইম মনিটরিং হচ্ছে, যেকন সময়যেকোন বিপদে পড়তে পারেন তাই সকল নাগরিককে সচেতনসাবধান হতে হবে

প্রচারঃ গণসচেতনতামূলক কর্মসূচীর আলোকে

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনবিএইচআরএফ, ফোনঃ০১৮২২-৭৩৬৪৭৩

Email- bhrfctg@gmail.com

Share This Post

আরও পড়ুন